সুন্দর চরিত্র বা উত্তম চরিত্র উত্তম আদর্শ মুহাম্মদ (সঃ)

নিজের চরিত্র পরিবর্তন করুন,

উত্তম চরিত্র

আপনি আপনার চেহারাকে পরিবর্তন করতে পারবেন না, কিন্তু চাইলেই আপনার  ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তন করতে পারেন। তাই, নিজের চরিত্র পরিবর্তন করুন। এটি অনেক সহজ, কিন্তু এর ফল অনেক মধুর।

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম রহস্য হলো সুন্দর চরিত্র। এ গুণটি আছে বলেই মানুষ অন্য প্রাণীদের থেকে শ্রেষ্ঠ। মানুষের চরিত্র সুন্দর না হলে মানুষ আর নিকৃষ্ট প্রাণীর মধ্যে তফাত থাকে না। এমনকি তখন মানুষ আরও নিকৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণী হয়ে যায়। আর যখন এ সুন্দর গুণটি মানুষের মধ্যে পরিপূর্ণরূপে পাওয়া যাবে, তখন মানুষের মধ্যেও অন্যতম সফল মানুষ হিসেবে জীবন যাত্রা শান্তিপূর্ণ হবে। এবং পরকালও আরামদায়ক হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয় এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ হয়।’ (সুরা শামস: ৯-১০)। আল্লাহ  বলেন, ‘নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়।’( সুরা আলার: ১৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সেই, যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ (বুখারি : ৩৫৫৯)

ভালো আচরণের মানুষ সমাজে হয় প্রশংসিত। সবাই তার সুনাম করে। পছন্দ করে। সবার থেকে পায় আলাদা মূল্যায়ন। যেকোনো সামাজিক কাজ বা অনুষ্ঠানে মানুষ তাকে অগ্রাধিকার দেয়। দুনিয়ার পাশাপাশি তার পরকালের জীবনও হয় এরকম প্রশংসিত ও আনন্দের। ভালো আচরণের বিনিময় হলো জান্নাত। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, কোন আমলের কারণে মানুষ বেশি জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন, আল্লাহভীতি ও সুন্দর আচরণ।’ (তিরমিজি: ২০০৩)।

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় এবং কেয়ামত দিবসে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা হবে, যারা তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হবে। আর সবচেয়ে অপছন্দনীয় ও কেয়ামত দিবসে আমার থেকে দূরবর্তী হবে তারা, যারা তোমাদের মধ্যে বাচাল, দাম্ভিককণ্ঠী ও  (অহংকারী)।’ (তিরমিজি: ২০১৮)।


জীবন চলার পথে আসে অনেক হতাশা। অনেকেই নিজের অবস্থার ওপর আক্ষেপ করেন। ইস যদি আমার ওই বিষয়টি থাকত। যদি আমি অমুক ব্যক্তির মতো হতাম এরকম আফসোস আর হতাশামুক্ত একটি সুন্দর আরামদায়ক জীবনের জন্য আমাদের প্রয়োজন উত্তম চরিত্র। উত্তম চরিত্র অর্জনকারীর পৃথিবীতে কখনও আক্ষেপ করতে হয় না।

সে হয় সবার চেয়ে সফল ও সুখী মানুষ। আবদুুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের ভেতর যখন চারটি আমল থাকবে তখন দুনিয়ার অন্য কোনো কিছু না পেলেও তোমাদের কোনো আফসোস থাকবে না। সেই চারটি জিনিস হলো: 

১. আমানতদারিতা 
২. সত্যবাদিতা 
৩. উত্তম চরিত্র 
৪. সম্মানজনক রিজিক।’

মানুষের প্রতি দয়া, অনুকম্পা, সহানুভতি ইত্যাদি প্রদর্শনের মাধ্যমে উত্তম চরিত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের উত্তম চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলে দেব না। যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন কর, যে তোমার ওপর জুলুম করেছে তাকে তুমি ক্ষমা করে দাও এবং যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে তাকে দান কর।’ (বায়হাকি: ৭৮৫৬)। এভাবে মানুষ তার ভাগ্যকে নিজ নিজ চরিত্রের দ্বারা সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যে পরিণত করতে পারে। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বনী আদমের সৌভাগ্য হলো উত্তম চরিত্র এবং দুর্ভাগ্য হলো মন্দ চরিত্র।’ (বায়হাকি : ৭৮০৮)

আমরা এ প্রশংসিত গুণটি অর্জন করতে চাইলে আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.) চরিত্র মাধুর্যে নিজের চরিত্রকে সাজাতে হবে। উত্তম চরিত্রের অত্যন্ত চমৎকার দৃষ্টান্ত স্বয়ং রাসুল (সা.)। তিনিই হলেন আমাদের উত্তম চরিত্রের মাপকাঠি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা কলম: ৪)।

সুন্দর চরিত্র

আমাদের চরিত্র যেন সে অনুপম চরিত্র মাধুর্যে গড়ে ওঠে সে জন্য চেষ্টা করা চাই। আমাদের লেনদেন, আচার-আচরণ সবকিছুই যেন হয় রাসুল (সা.) আদর্শ অনুযায়ী। তবেই আমরা মানুষের মতো মানুষ হতে পারব। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টির মর্যাদা ধরে রাখতে পারব। সুখময় হবে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবন।



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

.....www.SharifAhmedSourav.blogspot.com