ইমান ভঙ্গের কারন কি করলে ইমান চলে যায়।
ইমান ভাঙ্গার কারন।
যে কাজ গুলো করলে মানুষ কাফের হয়ে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয়ে যায়। আমাদের দেশে বিদ’আতি আলেম সম্প্রদায় সুরেলা, বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী মানুষের সামনে পেশ করে। ছোটবেলা থেকেই ওযু ভঙ্গের কারণ শিখানো হয়, কিন্তু ঈমান ভঙ্গের কারণ শিখানো হয় না।
ঈমান ভঙ্গের কারণগুলো হলো –
১. আল্লাহর ইবাদতে শরীক বা অংশীদার স্থাপন করাঃ
আল্লাহর ইবাদতে শরীক বা অংশীদার স্থাপন করাঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন সৃষ্ট বস্তুকে ইবাদাত কিংবা মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনে আল্লাহর সমতুল্য মনে করাই শির্ক। জাহান্নামে প্রবেশের পরে মুশরিকরা বলবে -
“আল্লাহর শপথ, আমরা প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিলাম যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য স্থির করেছিলাম।”
(সূরা আশ-শু’আরা, আয়াত ৯৭-৯৮)
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করবেন না। এটা ছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে মাফ করবেন এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করল, সে এক মহা অপবাদ আরোপ করল।”
(সূরা নিসা, আয়াত ৪৮)
অন্যত্র তিনি বলেন,
“নিশ্চয় কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম।” (সূরা মায়িদা, আয়াত ৭২)
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সৃষ্টিজগতের পরিচালক, স্রষ্টা, বা রিযিকদাতা মনে করা, আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে কাউকে সমকক্ষ মনে করা, মৃতকে আহবান করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা, তাদের জন্য নযর-নেয়াজ মানা ও পশু যবেহ করা এ প্রকার শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
২. আল্লাহ এবং নিজের মাঝে মাধ্যম সাব্যস্ত করা ও তার নিকট শাফা’আত চাওয়াঃ
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে,
“আমরা তো এদের ইবাদত এ জন্যে করি যে, এরা আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দেবে।।”
(সূরা যুমার, ৩৯:৩)
জাহেলী যুগের কাফিররা বিশ্বাস করত যে, ঐ সব মৃত নেককার ব্যক্তিবর্গের আল্লাহর নিকট বড় মর্যাদা রয়েছে, ফলে তারা তাদের প্রয়োজনসমূহ আল্লাহর নিকট উত্থাপন করবে, এ ধারণায় যে নিশ্চয় তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে। তা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ তাদের এই বক্তব্যকে কুফুরী সাব্যস্ত করেছেন, যদিও তারা বলতো,
“এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।” [সূরা ইউনুছ, আয়াত: ১৮]
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।” [সূরা গাফির, আযাত: ৬০]
সুতরাং চাইতে হবে একমাত্র আল্লাহর নিকটেই। এই কারণে কবরে সিজদা প্রদান, কবরবাসীর নিকটে সুপারিশ কামনা করাও শিরকে আকবারের অন্তর্ভুক্ত। মক্কার মুশরিকরা আল্লাহকে এক বলে মেনে নিলেও তাদের বাতিল ইলাহকে আল্লাহর কাছে পৌছানোর মাধ্যম মনে করত।
৩. কাফির মুশরিকদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করা বা তাদের কাফের মনে না করা অথবা তাদের মতবাদকে সঠিক ভাবাঃ
আল্লাহ বলেন,
• ‘নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র’ [সূরা তাওবাহ, আয়াত ২৮]
• ‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ) মুশরিকদের থেকে মুক্ত’ [সূরা তাওবাহ, আয়াত ৩]
মহান আল্লাহ বলেন,
• ‘‘নিশ্চয়ই আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং শিরক করে তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী এবং এরাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।’’ [সূরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত ৭]
আল্লাহ এদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটাও হারাম ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,
• ‘‘তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরিক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভাল লাগে। তোমরা কোন মুশরিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরিকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে।’’ [সূরা বাকারাহ, আয়াত ২২১]
৪. মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দেখানো আইন ও বিধান ব্যতীত অন্য কারো আইন বা বিধান উত্তম মনে করা।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার নারী-পুরুষের সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।" [সূরা আহযাব, আয়াত ৩৬]
৫. ইসলামের কোনো বিধানকে অপছন্দ করা। এমনকি সেটার উপর আমল করলেও:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
• যারা কুফরী করে তাদের জন্য দুর্ভোগ আর তিনি তাদের কর্মকে বিনষ্ট করে দেবেন।তা এজন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, কাজেই আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করেন। [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ৮-৯]
মহান আল্লাহ বলেন,
"তারা পূর্ব থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্য সমূহ উলট-পালট করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হ’ল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা অপছন্দ করল" [সূরা তাওবা, আয়াত ৪৮]
ইসলামের ছোট-বড় যেকোনো বিধি-বিধান, চাই এটা টাখনুর উপর কাপড় পরা হোক কিংবা হজ্জ করা, ইসলামের যেকোনো বিধানকে অপছন্দ করলে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়।
৬. ইসলামের কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা:
• তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা জোর দিয়েই বলবে, ‘আমরা হাস্য রস আর খেল-তামাশা করছিলাম।’ বল, ‘আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে?’ ওযর পেশের চেষ্টা করো না, ঈমান আনার পর তোমরা কুফরী করেছ। তোমাদের মধ্যেকার কোন দলকে ক্ষমা করলেও অন্যদেরকে শাস্তি দেব, কারণ তারা অপরাধী। [সূরা তাওবা, আয়াত ৬৫-৬৬]
আজকাল দাড়ি রাখলে, টুপি পরলে, টাখনুর উপর কাপড় পরলে, ইসলাম নিয়ে আলোচনা করলে, কথা বললে, এমনকি অনলাইনে ইসলাম নিয়ে কিছু শেয়ার করলেও বলা হয় – ‘কীরে হুজুর হয়ে গেলি হবে?’, ‘দাড়ি রাখলে পুরো জঙ্গী দেখা যায়।‘, ‘ভন্ড তপস্বী!’, ‘ভণ্ড হুজুর’ ইত্যাদি। এসব কথা স্পষ্ট কুফর।
এখানে তো ছোট ছোট কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো। এক কথায়, ইসলামের যেকোনো বিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র হাসি-ঠাট্টা করা কুফর।
৭. যাদু, তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে ভালো বা মন্দ কিছু করতে চাওয়া:
• “এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐকাজ (যাদু) করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!” [সূরা বাক্বারাহ, আয়াত ১০২]
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে, অশান্তি সৃষ্টি করতে, জ্বিন তাড়ানোর জন্য, রোগের চিকিৎসার জন্য, মনোবাসনা পূরণ করতে, হারানো জিনিস খুঁজে পেতে – এক কথায় যেকোনো কাজের জন্য যাদু করা অথবা তন্ত্র-মন্ত্র পাঠ করা কুফর।
আমাদের দেশের কবিরাজগণ এসব তন্ত্র-মন্ত্র ব্যবহার করে থাকে। তাই, সাবধান! কবিরাজের কাছে যাওয়া থেকে দূরে থাকবেন। জ্বিন ও জাদু জনিত অসুস্থতার জন্য কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত চিকিতসা ‘রুকইয়াহ’ গ্রহণ করুন।
৮. মুসলিমদের বিরুদ্ধ শক্তিকে সাহায্য করা:
• হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদ ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। [সূরা মায়িদা, আয়াত ৫১]
৯. মুহাম্মাদ (সাঃ) এর আনীত জীবনব্যবস্থা ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থাকে সঠিক মনে করা:
• এরা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য দ্বীনের সন্ধান করছে? অথচ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮৩]
এক কথায় সমস্ত ধর্ম, মানরচিত সকল মতবাদ (সেক্যুলারিজম, কমিউনিজম, গণতন্ত্র, নারীবাদ, লিবারেলিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি) কে ঘৃণা করতে হবে। একমাত্র ইসলামকেই চূড়ান্ত আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
১০. আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া:
• “তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে যাকে তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দান করা হলে সে তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব।” [সূরা সাজদাহ, আয়াত ২২]
• “যারা খারাপ কাজ করে তারা কি মনে করে যে, আমি জীবন ও মৃত্যুর দিক দিয়ে তাদেরকে সেসব ব্যক্তিদের সমান গণ্য করব যারা ঈমান আনে ও আমল করে? তাদের সিদ্ধান্ত কতই না মন্দ!” [সূরা জাসিয়া আয়াত ২১]
ঈমান ভঙ্গের কারণগুলো হলো –
১. আল্লাহর ইবাদতে শরীক বা অংশীদার স্থাপন করাঃ
আল্লাহর ইবাদতে শরীক বা অংশীদার স্থাপন করাঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন সৃষ্ট বস্তুকে ইবাদাত কিংবা মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনে আল্লাহর সমতুল্য মনে করাই শির্ক। জাহান্নামে প্রবেশের পরে মুশরিকরা বলবে -
“আল্লাহর শপথ, আমরা প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিলাম যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য স্থির করেছিলাম।”
(সূরা আশ-শু’আরা, আয়াত ৯৭-৯৮)
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করবেন না। এটা ছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে মাফ করবেন এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করল, সে এক মহা অপবাদ আরোপ করল।”
(সূরা নিসা, আয়াত ৪৮)
অন্যত্র তিনি বলেন,
“নিশ্চয় কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম।” (সূরা মায়িদা, আয়াত ৭২)
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সৃষ্টিজগতের পরিচালক, স্রষ্টা, বা রিযিকদাতা মনে করা, আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে কাউকে সমকক্ষ মনে করা, মৃতকে আহবান করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা, তাদের জন্য নযর-নেয়াজ মানা ও পশু যবেহ করা এ প্রকার শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
২. আল্লাহ এবং নিজের মাঝে মাধ্যম সাব্যস্ত করা ও তার নিকট শাফা’আত চাওয়াঃ
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে,
“আমরা তো এদের ইবাদত এ জন্যে করি যে, এরা আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দেবে।।”
(সূরা যুমার, ৩৯:৩)
জাহেলী যুগের কাফিররা বিশ্বাস করত যে, ঐ সব মৃত নেককার ব্যক্তিবর্গের আল্লাহর নিকট বড় মর্যাদা রয়েছে, ফলে তারা তাদের প্রয়োজনসমূহ আল্লাহর নিকট উত্থাপন করবে, এ ধারণায় যে নিশ্চয় তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে। তা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ তাদের এই বক্তব্যকে কুফুরী সাব্যস্ত করেছেন, যদিও তারা বলতো,
“এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।” [সূরা ইউনুছ, আয়াত: ১৮]
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।” [সূরা গাফির, আযাত: ৬০]
সুতরাং চাইতে হবে একমাত্র আল্লাহর নিকটেই। এই কারণে কবরে সিজদা প্রদান, কবরবাসীর নিকটে সুপারিশ কামনা করাও শিরকে আকবারের অন্তর্ভুক্ত। মক্কার মুশরিকরা আল্লাহকে এক বলে মেনে নিলেও তাদের বাতিল ইলাহকে আল্লাহর কাছে পৌছানোর মাধ্যম মনে করত।
৩. কাফির মুশরিকদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করা বা তাদের কাফের মনে না করা অথবা তাদের মতবাদকে সঠিক ভাবাঃ
আল্লাহ বলেন,
• ‘নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র’ [সূরা তাওবাহ, আয়াত ২৮]
• ‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ছাঃ) মুশরিকদের থেকে মুক্ত’ [সূরা তাওবাহ, আয়াত ৩]
মহান আল্লাহ বলেন,
• ‘‘নিশ্চয়ই আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং শিরক করে তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী এবং এরাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।’’ [সূরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত ৭]
আল্লাহ এদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটাও হারাম ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,
• ‘‘তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরিক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভাল লাগে। তোমরা কোন মুশরিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরিকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে।’’ [সূরা বাকারাহ, আয়াত ২২১]
৪. মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দেখানো আইন ও বিধান ব্যতীত অন্য কারো আইন বা বিধান উত্তম মনে করা।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার নারী-পুরুষের সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।" [সূরা আহযাব, আয়াত ৩৬]
৫. ইসলামের কোনো বিধানকে অপছন্দ করা। এমনকি সেটার উপর আমল করলেও:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
• যারা কুফরী করে তাদের জন্য দুর্ভোগ আর তিনি তাদের কর্মকে বিনষ্ট করে দেবেন।তা এজন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, কাজেই আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করেন। [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ৮-৯]
মহান আল্লাহ বলেন,
"তারা পূর্ব থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্য সমূহ উলট-পালট করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হ’ল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা অপছন্দ করল" [সূরা তাওবা, আয়াত ৪৮]
ইসলামের ছোট-বড় যেকোনো বিধি-বিধান, চাই এটা টাখনুর উপর কাপড় পরা হোক কিংবা হজ্জ করা, ইসলামের যেকোনো বিধানকে অপছন্দ করলে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়।
৬. ইসলামের কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা:
• তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা জোর দিয়েই বলবে, ‘আমরা হাস্য রস আর খেল-তামাশা করছিলাম।’ বল, ‘আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে?’ ওযর পেশের চেষ্টা করো না, ঈমান আনার পর তোমরা কুফরী করেছ। তোমাদের মধ্যেকার কোন দলকে ক্ষমা করলেও অন্যদেরকে শাস্তি দেব, কারণ তারা অপরাধী। [সূরা তাওবা, আয়াত ৬৫-৬৬]
আজকাল দাড়ি রাখলে, টুপি পরলে, টাখনুর উপর কাপড় পরলে, ইসলাম নিয়ে আলোচনা করলে, কথা বললে, এমনকি অনলাইনে ইসলাম নিয়ে কিছু শেয়ার করলেও বলা হয় – ‘কীরে হুজুর হয়ে গেলি হবে?’, ‘দাড়ি রাখলে পুরো জঙ্গী দেখা যায়।‘, ‘ভন্ড তপস্বী!’, ‘ভণ্ড হুজুর’ ইত্যাদি। এসব কথা স্পষ্ট কুফর।
এখানে তো ছোট ছোট কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো। এক কথায়, ইসলামের যেকোনো বিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র হাসি-ঠাট্টা করা কুফর।
৭. যাদু, তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে ভালো বা মন্দ কিছু করতে চাওয়া:
• “এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐকাজ (যাদু) করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!” [সূরা বাক্বারাহ, আয়াত ১০২]
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে, অশান্তি সৃষ্টি করতে, জ্বিন তাড়ানোর জন্য, রোগের চিকিৎসার জন্য, মনোবাসনা পূরণ করতে, হারানো জিনিস খুঁজে পেতে – এক কথায় যেকোনো কাজের জন্য যাদু করা অথবা তন্ত্র-মন্ত্র পাঠ করা কুফর।
আমাদের দেশের কবিরাজগণ এসব তন্ত্র-মন্ত্র ব্যবহার করে থাকে। তাই, সাবধান! কবিরাজের কাছে যাওয়া থেকে দূরে থাকবেন। জ্বিন ও জাদু জনিত অসুস্থতার জন্য কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত চিকিতসা ‘রুকইয়াহ’ গ্রহণ করুন।
৮. মুসলিমদের বিরুদ্ধ শক্তিকে সাহায্য করা:
• হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদ ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। [সূরা মায়িদা, আয়াত ৫১]
৯. মুহাম্মাদ (সাঃ) এর আনীত জীবনব্যবস্থা ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থাকে সঠিক মনে করা:
• এরা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য দ্বীনের সন্ধান করছে? অথচ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮৩]
এক কথায় সমস্ত ধর্ম, মানরচিত সকল মতবাদ (সেক্যুলারিজম, কমিউনিজম, গণতন্ত্র, নারীবাদ, লিবারেলিজম, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি) কে ঘৃণা করতে হবে। একমাত্র ইসলামকেই চূড়ান্ত আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
১০. আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া:
• “তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে যাকে তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দান করা হলে সে তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব।” [সূরা সাজদাহ, আয়াত ২২]
• “যারা খারাপ কাজ করে তারা কি মনে করে যে, আমি জীবন ও মৃত্যুর দিক দিয়ে তাদেরকে সেসব ব্যক্তিদের সমান গণ্য করব যারা ঈমান আনে ও আমল করে? তাদের সিদ্ধান্ত কতই না মন্দ!” [সূরা জাসিয়া আয়াত ২১]
কোন মন্তব্য নেই